![]() |
| ছবি: এআই জেনারেটেড |
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ ২০২৬ বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রযুক্তিও পিছিয়ে নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখা যায় নানা প্রযুক্তির ব্যবহার। ফুটবল মাঠে, বলে কিংবা ব্রডকাস্টিংয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার। তেমনি কিছু উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি নিয়ে চলুন জেনে নিই।
কানেক্টেড বল: বিশ্বকাপ ফুটবলের বল এখন শুধু বল নয় এটি ছোটখাট একটি গ্যাজেট। এবারের বলে আছে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। এটি ফিফা ও অ্যাডিডাসের যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত একটি উদ্ভাবনী ব্যবস্থা।বলের ভেতরে একটি ক্ষুদ্র সেন্সর রয়েছে যা বলের গতিবিধি এবং স্পর্শবিন্দু সম্পর্কে ক্রমাগত তথ্য প্রেরণ করে।কানেক্টেড বল টেকনোলজি নামে পরিচিত এই গ্যাজেটটি কোনো খেলোয়াড়ের বল স্পর্শ করার সঠিক মুহূর্তটি শনাক্ত করতে পারে। অফসাইড প্রযুক্তির সাথে মিলিত হয়ে এটি ম্যাচেড় কর্মকর্তাদের নির্ধারণ করতে সাহায্য করে যে পাস দেওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তে খেলোয়াড়টি অফসাইড ছিলেন কি না। আগে ভিডিওর মাধ্যমে অফসাইড যাচাই করতে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হতো। তাই নতুন প্রযুক্তিটি গূরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফিফা টুর্নামেন্টগুলোতে।
গোল-লাইন প্রযুক্তি: বল গোল লাইন পার হিয়েছে কিনা সেই বিতর্ক এখন হয় না। কেননা গোল লাইন প্রযুক্তির আভির্ভাব হয়েছে। এখন চৌদ্দটি দ্রুতগতির ক্যামেরা প্রতিটি গোল বার এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। যদি পুরো বলটি লাইন পার হয়ে যায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গে একটি বিশেষ ঘড়িতে সংকেত পান যা সাধারণত এক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে চালু হলেও বর্তমানে শীর্ষ অনেক ফুটবল টুর্নামেন্টে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
ফুটবল এআই প্রো: ফিফা এবং লেনোভো 'ফুটবল এআই প্রো' নামে একটি জেনারেটিভ এআই প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে যা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের জন্যই উপলব্ধ হবে। এই সিস্টেমটি লক্ষ লক্ষ ফুটবল ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে কৌশলগত প্রতিবেদন, পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ, ভিডিও বিশ্লেষণ, গ্রাফ এবং থ্রিডি ভিজ্যুয়ালাইজেশন তৈরি করতে পারে।এটি অফিসিয়াল ম্যাচের ডেটা থেকে বিশ্লেষণমূলক অন্তর্দৃষ্টি এবং রিপোর্ট তৈরি করতে পারে। এটি দ্রুত, নির্ভরযোগ্য এবং সুসংগঠিত উপায়ে কৌশলগত দিক, পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং কৌশলগত সুপারিশ প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ফিফা ফুটবল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল। সাধারনত ভিডিও এবং অন্যান্য ডেটা উৎসের সক্ষম এআই এজেন্টদের সমন্বয় করে। বর্তমানে ফুটবলে যে বিপুল পরিমাণ ডেটা এবং ভিডিও সামগ্রী তৈরি হচ্ছে । তাই দলগুলোর জন্য এসব ডেটা ভালোভাবে সাজানো দরকার। ফুটবল এআই প্রো সিস্টেমটির লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ দক্ষতার অভাব রয়েছে এমন দলসহ সকল দলকে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কাঁচা ডেটার সহজলভ্যতা এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার মধ্যকার ব্যবধান পূরণ করা। কোচিং স্টাফদের জন্য ডেটা বিশ্লেষণ আরো সহজ হবে।
থ্রিডি প্লেয়ার অ্যাভাটার: বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার টুর্নামেন্টের আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ডিজিটালভাবে স্ক্যান করা হবে। এই স্ক্যানগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুল থ্রিডি অ্যাভাটার তৈরি হয যা অফসাইড সিস্টেমে খেলোয়াড়দের শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই অ্যাভাটারগুলো টিভি সম্প্রচারেও দেখা যাবে, যার ফলে ভক্তরা বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবসম্মত থ্রিডি রিপ্লে দেখতে পারবেন। ফিফা জানিয়েছে প্রতিটি স্ক্যান করতে প্রায় এক সেকেন্ড সময় লাগে এবং এতে শরীরের বিস্তারিত মাপ ধারণ করা হয়। গত বছরের ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ-এ প্রযুক্তিটি সফলভাবে পরিক্ষা করা হয়েছিল।
রেফারি ভিউ: লেনেভো ও ফিফা আরো একটি প্রযুক্তি বিশ্বকাপে আনতে যাচ্ছে। ফিফা এবং লেনোভো ‘রেফারি ভিউ’ -এর একটি নতুন সংস্করণও চালু করেছে যা গত বছরের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ-এ মূল সংস্করণের সফল পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে তৈরি বা আপগ্রেড ভার্সন। রেফারির গায়ে থাকবে ক্যামেরা। এআই-চালিত স্ট্যাবিলাইজেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে রেফারির ক্যামেরা থেকে ধারণ করা ফুটেজ রিয়েল টাইমে মসৃণ করা হবে যা দ্রুত নড়াচড়ার কারণে সৃষ্ট মোশন ব্লার কমিয়ে দেবে। এই স্থিতিশীল ফুটেজ বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য একটি উচ্চ মানের, ফার্স্ট-পার্সন ভিডিও প্রদান করবে।এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর স্বচ্ছতা ও বোধগম্যতা বাড়াবে।

0 comments:
Post a Comment
আপনার মূল্যবান মতামত বা পরামর্শটি এখানে শেয়ার করুন।দয়া করে কোনো স্প্যাম বা অপ্রাসঙ্গিক লিংক কমেন্ট করবেন না।