স্কুল থেকে ফিরছে বাবলু।আজ তাড়াতাড়ি ছুটি হয়েছে স্কুল।কেননা আজ বৃহস্পতিবার।ফুটপাথ দিয়ে হাটছে সে।ফুটপাথে বিভিন্ন দোকান বসে।নানা ধরণের বই,খেলনা,কলম পাওয়া যায়।আজ ও বসেছে।টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে কিছু টাকা জমিয়েছে বাবলু।তাই ভাবলো আজ কিছু কিনবে।এভাবে সে মাঝেমধ্যে নানান জিনিস কিনে।কখনো কলম,কখনো পুরোনো বই।
ফুটপাথের শেষ মাথায় এক বুড়ো মতো লোক পলিথিন বিছিয়ে কিছু পুরোনো জিনিসপাতি বিক্রি করছে।তাতে চোখ আটকে গেল বাবলুর।ছোট্ট একটা বিড়ালে।না সত্তিকারের বিড়াল নয়।মাটির তৈরি।দেখেই বুঝা যাচ্ছে অনেক পুরোনো।সাদা মাটির তৈরি বিড়াল।ছোট্ট বিড়ালটা পছন্দ হল তার।দোকানে কোনো ক্রেতা নেই।তাই বাবলু জিজ্ঞেস করলো বিড়ালটার দাম।
"আংকেল এই বিড়ালটা কত?
"কোনটা?"
"এইটা" হাত দিইয়ে ইশারা করলো বাবলু।
মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল দোকানির।
"একশ টাকা।"
দোকানির হাসি মিলিয়ে যাওয়াটা খেয়াল করলো বাবলু।লোকটা কি ভাবছে বাবলুর কাছে টাকা নেই।এমনি এমনি দাম জিজ্ঞেস করতে এসেছে।তাই জেদ করে বলল,"আমি কিনবো বিড়ালটা।এই নিন টাকা।"
টিফিনের টাকা জমিয়ে কিনে ফেলল বিড়ালটা।ছোট্ট এই বিড়ালটা কেনার পিছনে কারণ হলো বিড়ালটা দেখতে বেশ জীবন্ত।কিন্তু এটা ঘুমন্ত বিড়াল।সামনের দুই পায়ের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে বিড়ালটা। এভাবেই বানানো হয়েছিল।অবশ্য ঘুমন্ত বলেই বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে।সব প্রাণীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে সুন্দর লাগে।হয়তো তাই কারিগর বিড়ালটা ঘুমন্ত রেখেছে।ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে এলো বাবলু।
সেদিন রাতেই ঘটে গেল অদ্ভুদ এক ঘটনা।বিড়ালটা পড়ার টেবিলে রেখে টেবিলেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল বাবলু।ঘুম ভাঙ্গলো বিড়ালের ডাকে।কিন্তু তাদের বাড়িতে তো কেউ বিড়াল পুষে না।এমনকি পুরো বিল্ডিংয়ের কেউ বিড়াল পুষে না।তবে কি মাটির বিড়ালটা ডাকলো তাকে।ভয়ে শিউরে উঠলো বাবলু।অবশ্য ঘুম ভাঙলো যখন আম্মু বাবলুকে ডাকতে এলো।নাকি বাবলু কে সতর্ক করে দিতে ডেকে দিলো বিড়ালটা।
ঘটনাটা ভুলে গেল বাবলু।তারপর কেটে গেল দুই সপ্তাহ।সেদিন ও ছিলো বৃহষ্পতিবার।পড়াশোনা শেষে রাতে ঘুমোতে গেল বাবলু।পরদিন শুক্রুবার।স্কুল নেই।তাই নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোতে গেল।রাত যখন ১ টা, হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল তার।টেবিলে কিছু একটার শব্দে। টেবিলের উপর কোনো প্রানির লাফালাফির শব্দ হচ্ছে।অন্ধকারে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না।খাট থেকে উঠে লাইট জ্বালালো বাবলু।ভয় ঝেঁকে বসেছে তার মনে।না, কিচ্ছু নাই।মাটির বিড়ালটা তার জায়গাতেই আছে।কিন্তু এবার তার ভয় দ্বিগুন হলো, মনে হলো বিড়ালটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে।যেন সত্তিকারের বিড়ালের আকার ধারণ করছে।ঘুমন্ত বিড়ালটা যেন ম্যাঁও ম্যাঁও করে ডাকছে।এও কি সম্ভব!ঘোরের মধ্যে পরে গেল বাবলু।
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল।
না,বাবলুর নয়।বিড়ালটার...
- টি এইচ মাহির || ২০২৩
গল্পটি দৈনিক কালবেলা পত্রিকায় সম্পাদকের সম্পাদনায় শিশুতোষ পাতা 'তাকদুম তাকদুম'-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
এখানে পড়ুন: দুঃস্বপ্ন
ছবি: এআই জেনারেটেড
.jpg)
0 comments:
Post a Comment
আপনার মূল্যবান মতামত বা পরামর্শটি এখানে শেয়ার করুন।দয়া করে কোনো স্প্যাম বা অপ্রাসঙ্গিক লিংক কমেন্ট করবেন না।